meta name="google-site-verification" content="xjowQsHoQ-Mvf4cvToRhR1jibQ34TLi69aHBFwC5vc" /> ঘরোয়া পদ্ধতিতে চুলের নানান সমসার সহজ সমাধান - HEALTH PROBLEM SOLVE

ঘরোয়া পদ্ধতিতে চুলের নানান সমসার সহজ সমাধান


নিয়মিত চুলের পরিচর্যা করুন, বহুগুণে চুলপড়া রোধ করতে সহায়তা করবে



চুল পড়া শুরু করলেই আমরা যে জিনিসটি বেশি করি, তা হলো দুশ্চিন্তা। কিন্তু জানেন কি, চুল পড়ার দুশ্চিন্তায় আরো বেশি চুল পড়ে যায়? তাই চুল পড়া রোধ করতে হলে প্রথমেই রোধ করতে হবে দুশ্চিন্তা। চুল মানুষের সৌন্দর্যের একটা বড় মাপকাঠি। তাই চুল নিয়ে আমাদের আবেগটাও বেশি। ঠিক এ কারণেই চুল পড়লে বা মাথায় টাক পড়ে গেলে অনেকেই মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন। চুলের অতি সাধারণ কিছু যত্ন, বিশেষ করে ঘুমানোর আগে কিছু কাজ নিয়ম করে করলে চুল পড়া রোধ করা যায় অনেকখানি এবং আজীবনের জন্যই।
* চুল পরিষ্কার রাখুন
চুল পড়া রোধের প্রথম শর্ত হলো চুল পরিষ্কার রাখা। তাই সারাদিন বাইরে ধুলোময়লার ভেতর থাকার পর অবশ্যই বাড়ি ফিরে চুল পরিষ্কার করা উচিত। সকালে বা দিনের বেলা সম্ভব না হলে রাতের গোসলের সময় শ্যাম্পু করুন। প্রতিদিন ব্যবহারের জন্য মাইল্ড শ্যাম্পু ব্যবহার করুন। ঘুমানোর আগে অবশ্যই চুল শুকিয়ে ঘুমাবেন।
* চুল আঁচড়ান
বাইরে থেকে ফেরার পর যদি চুল ধোয়া সম্ভব না হয় তাহলে প্রথমে চিরুনী দিয়ে চুল ভালো করে আঁচড়ে জট ছাড়িয়ে নিন। এর পর চিরুনী পানিতে ভিজিয়ে নিয়ে তারপর চুল আঁচড়ান। চুলে আটকে থাকা আলগা ধুলো চিরুনীর সাথে উঠে আসবে। আবার চিরুনী ধুয়ে নিয়ে একইভাবে চুল আঁচড়ান।
* চুল বেঁধে ঘুমান
মানুষের গড়ে প্রতিদিন ১০০টা পর্যন্ত চুল পড়ে যেতে পারে। এবং বেশির ভাগ চুল পড়ে যায় রাতের বেলা, বালিশের সাথে চুলের ঘষা লেগে। রাতে চুল বেঁধে ঘুমান, বিশেষ করে যাঁদের বড় চুল। তাহলে চুল কম পড়বে। অনেকেই আছেন যাঁরা চুল বেঁধে ঘুমাতে পারেন না, অস্বস্তিবোধ করেন। আবার অনেকের মাইগ্রেন আছে বলে চুল বেঁধে ঘুমালে মাথাব্যথা করে। যাঁদের চুল বেঁধে ঘুমাতে সমস্যা তাঁরা ঘুমাতে যাবার আগে চুল ভালো করে আঁচড়ে নিন। চুলে জটা থাকলে চুল পড়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।
* চুল শুকনো রাখুন
যাঁরা অতিরিক্ত ঘামেন তাঁদের চুল পড়ে যায় বেশি। এমনভাবে ঘুমান যাতে ফ্যানের বাতাস মাথায় লাগতে পারে। রাতে মাথার ত্বক ঘামলে চুলের গোড়া দুর্বল হয়ে যায় এবং চুল আরো বেশি পড়ে যায়। গোসলের পর এক মগ পানিতে ৩ চা চামচ গোলাপজল মিশিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন। এতে চুলের গোড়া কম ঘামবে।

ঘরোয়া পদ্ধতিতে চুলের যত্ন

শুধু বড় চুল মানেই যে সুন্দর, এই ধারনা টা কিন্তু ভুল। নিয়মিত পরিচর্যা করে ছোট বা মাঝারি চুলকেও নজরকারা করে তোলা সম্ভব। দুঃখজনক হলেও কথাটা সত্য যে, আমরা তখনই চুলের পরিচর্যা শুরু করি যখন আমাদের চুলের সমস্যা প্রখর ভাবে দেখা দেয়। কিন্তু সমস্যা শুরু হবার আগে থেকেই নিয়মিত রুটিন মাফিক চুলের যত্ন নিলে খুশকি, নির্জীবতা এবং চুল পরার মত সমস্যাগুলো এড়ানো সম্ভব। আসুন আজকে আমরা জেনে নিই কীভাবে চুলের যত্নের রুটিন মেনে চলা যায়।
তেল
চুলের যত্নে তেলের কোন বিকল্প নেই। ভালো চুল পেতে হলে সপ্তাহে ৪ দিন আপনাকে চুলে তেল দিতে হবে। চেষ্টা করুন রাতে ঘুমানোর আগে তেল দেয়ার। নারিকেল তেলের পাশাপাশি আমন্ড অয়েল, ক্যাস্টর অয়েল, তিল তেল এগুলো মিশিয়ে চুলে দিবেন। ক্যাস্টর অয়েল নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে। সপ্তাহে ১ দিন চুলে অবশ্যই হট অয়েল মাসাজ করবেন।
চুল বাঁধা
চুল দরকার হলে ছাড়া না রাখাই ভালো। এতে চুলকে দূষণ এর হাত থেকে বাঁচানো যায়। গোসলের পর চুল শুকিয়ে ভালো ভাবে বেণি বা খোপা করে রাখুন। বাইরে বের হলে স্কার্ফ ব্যবহার করুন। মনে রাখবেন অতিরিক্ত তাপ বা ঠাণ্ডা দুটোই কিন্তু চুলের পক্ষে ক্ষতিকর।
তাই রোদে বের হলে ছাতা ব্যবহার করুন এবং এয়ার কন্ডিশন রুমে অনেকক্ষণ থাকা থেকে বিরত থাকুন।
চুলের যত্নে কিছু উপকারী হেয়ার মাস্ক
আপনার চুলের পুষ্টির জন্য কিছু ঘরোয়া মাস্কের রেসিপি দিলাম, যেগুলো খুবই সহজলভ্য এবং নিয়মিত ব্যবহার করলে চুলের সমস্যা দূর হয়।
ডিম চুলের যত্নের একটি অনন্য উপাদান। সপ্তাহে ২ দিন নাহলে অন্ততপক্ষে ১ দিন চুলের দৈর্ঘ্য অনুযায়ী ডিম ফেটিয়ে চুলে দিয়ে ৪৫ মিনিট অপেক্ষা করে ধুয়ে ফেলুন শ্যাম্পু দিয়ে। তারপর, প্রাকৃতিক কন্ডিশনার হিসেবে এক মগ পানিতে ২/৩ চা চামচ ভিনেগার মিশিয়ে চুলে দিয়ে ২ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন।
যারা চুলের কালার এবং পুষ্টি দুটোই চান, তারা মেহেদি পাতা বাটা এবং ৪ চা চামচ কফি পাউডার মিশিয়ে চুলে এক ঘণ্টা রেখে ধুয়ে ফেলুন। শ্যাম্পু করবেন না ঐদিন।
মাথায় খুশকি বা ফুসকুড়ি থাকলে নিমপাতা ও মেথি একসাথে বেটে সপ্তাহে ২ দিন লাগালে খুব তাড়াতাড়ি ফল পাবেন।

চুল সিল্কি করতে চাইলে ডিম ফেটিয়ে তাতে লেবুর রস মিশিয়ে আধা ঘণ্টা রেখে শ্যাম্পু করে ফেলুন।

ডিম এবং মধুর মাস্ক চুলের ভলিউম বাড়াতে সাহায্য করে।
মাথার তালু ঠাণ্ডা রাখার একটি অব্যর্থ উপাদান হলো আলভেরার শাঁস বা জুস। এর সাথে সামান্য লেবুর রস মিশিয়ে মাথায় ৩০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলবেন।
পেঁয়াজের রস চুল গজাতে সাহায্য করে। ১৫ দিনে ১ বার মাথার তালুতে তুলোয় করে পেঁয়াজের রস লাগাবেন।
যারা কেমিক্যাল-যুক্ত শ্যাম্পু ব্যবহার করতে চান না, তারা রিঠা সারা রাত ভিজিয়ে রেখে পরদিন সেটার পানি ছেঁকে শ্যাম্পুর বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন|
এ তো গেল চুলের বাইরের যত্নের কথা। ভালো চুল পেতে হলে খাওয়া দাওয়াতেও নিয়ম মেনে চলতে হবে। প্রোটিন যেমন মাছ, ডিম এবং ক্যালসিয়াম যুক্ত খাবার চুলের জন্য ভালো। শাক সবজি এবং ফল ও খেতে হবে প্রচুর। পেটের সমস্যা থেকে অনেক সময় চুল পড়ে, তাই সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। হেয়ার ড্রায়ার, আয়রন মেশিন, কারলার, স্প্রে, হেয়ার চক, হেয়ার কালার যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলতে হবে। ডক্টর এর সাথে আলোচনা করে ভিটামিন বা আয়রন সাপ্লিমেন্ট খাওয়া যেতে পারে।

No comments

Theme images by ImagesbyTrista. Powered by Blogger.