meta name="google-site-verification" content="xjowQsHoQ-Mvf4cvToRhR1jibQ34TLi69aHBFwC5vc" /> মেদরোগ বা স্থূলতা রোগের কারণ, ফলাফল এবং প্রতিকার - HEALTH PROBLEM SOLVE

মেদরোগ বা স্থূলতা রোগের কারণ, ফলাফল এবং প্রতিকার



শরীরে মেদ বা চর্বির প্রয়োজনীয়তা :

শরীরের পক্ষে মেদ অর্থাৎ চর্বি অত্যাবশ্যক| চর্বি আমাদের শরীরের উত্তাপ রক্ষা করে|চর্বি আছে বলেই দেহ তুলতুলে অর্থাৎ তুলোর মতো কোমল |আমাদের পদতলে যদি চর্বি না থাকত তাহলে আমাদের চলাফেরা কষ্টসাধ্য হত |আমাদের কোমরে যদি চর্বি না থাকত তাহলে আমাদের বসতে অসুবিধা হতো |আমাদের যদি খাদ্যাভাব ঘটে অথবা আমরা স্বেচ্ছায় উপবাস করি তখন দেহে সঞ্চিত চর্বি আমাদের রক্ষা করে ,জঠরাগ্নির ক্ষুধা তৃপ্ত করে |কথাটার অর্থ এই যে শরীরে খাদ্যের যোগান দেয় |উপরিউক্ত কারণগুলির জন্য প্রাকৃতিক নিয়মেই আমাদের দেহে পরিমিত চর্বি সঞ্চিত হয় |কিন্তু এই সঞ্চয় যখন স্বাভাবিক মাত্রা ছাড়িয়ে যায় তখনই দেহ মেদবহুল হয়ে পড়ে |

পুরুষের চেয়ে নারীদেহে স্বাভাবিক নিয়মেই চর্বি বেশি থাকে |এইজন্য পুরুষের চেয়ে মেয়েদের দেহ অধিকতর কোমল |উদরে সন্তান পোষণ, সন্তানদেহ গঠন করতে হবে বলেই নারীদেহে অতিরিক্ত চর্বি সঞ্চয়ের ব্যবস্থা রয়েছে |

প্রয়োজনীয় চর্বি যেমন দেহযন্ত্র সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার সহায়ক, তেমনি আবার অতিরিক্ত চর্বি দেহযন্ত্র পরিচালনায় বিশেষভাবে ব্যাঘাত সৃষ্টি করে |অতিরিক্ত চর্বি সঞ্চয়ের জন্য হৃদযন্ত্রের স্নায়ুপেশী, ফুসফুসের স্নায়ুপেশী সঠিকভাবে সক্রিয় থাকতে পারে না |এইজন্য মেদবহুল দেহধারীরা সহজেই রক্তচাপ বৃদ্ধি রোগ, হৃদরোগ প্রভৃতিতে আক্রান্ত হয় |স্বাভাবিকভাবে তারা শ্বাস -প্রশ্বাস গ্রহণ -বর্জন করতে পারে না |এদের দেহের রক্তধারাও স্বাভাবিকভাবে প্রবাহিত হতে পারে না |

মেদের কারণ :

শারীরিক পরিশ্রম না করা, দিবা -নিদ্রা, অতিরিক্ত মাছ -মাংসাদি শ্লেষ্মাজনক খাদ্য গ্রহণ, মিষ্টি জাতীয় খাদ্য গ্রহণ ,দ্রুত ভোজন ,অতিরিক্ত ভোজন ,তৈলাক্ত খাবার সেবন, ফাস্ট ফুড ভক্ষণ প্রভৃতি কারণে মেদের আধিক্য দেখা যায় |

মেদরোগ দুই শ্রেণির - বংশগত ও অর্জিত |মেদবহুল পিতা -মাতার সন্তান স্বভাবতই স্থূলকায় হয় |প্রায় শতকরা 40 জন বংশানুক্রমে স্থূলদেহ লাভ করে |বাকি শতকরা 60 জন স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘনের জন্য এই রোগ নিজেই ডেকে আনে |


নিয়ম ও পথ্য :

মেদরোগীদের আহার সংযমের প্রতি বিশেষ দৃষ্টি রাখা বাঞ্ছণীয় |ভোরে ক্ষুধার জোর থাকলে নিজের রুচিমতো অল্প কিছু কাঁচা বা পাকা ফল খাবে |ফল খাওয়ার আগে এক চামচ মধুসহ আধ গ্লাস বা এক গ্লাস জল খাবে |ফল দুষ্প্রাপ্য হলে পাতলা দুধ এক কাপ খাবে চিনি ছাড়া |ভোরে অন্য কোন গ্রহণ করবে না |দুপুরবেলা অল্প ভাতের সঙ্গে বেশি পরিমানে শাক -সব্জী গ্রহণ করবে |ডাল ও মাছ খুব অল্প পরিমানে খাবে |বয়স পঞ্চাশের বেশি হলে মাছ -মাংস ত্যাগ করবে |পাতে কখনো ঘি -মাখন খাবে না, অধিক তেলমশলা দেওয়া খাবার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ |সম্ভব হলে দুপুরে ভোজনের সময় ঘোল এক গ্লাস খেতে পারলে ভালো |

বিকেলে আর কোন কিছুই খাবে না |খুব খিদে পেলে আনারস, নাসপাতি বা অন্য যেকোনো টক জাতীয় ফল খেতে হবে |

রাতে খিদে অনুযায়ী শাক -সব্জী সহ 1-2খানা রুটি, এক কাপ পাতলা দুধ ও সম্ভব হলে কিছু কিসমিস বা নারকেল প্রভৃতি শুকনো ফল খাবে |বলাবাহুল্য, কিসমিস প্রভৃতি শুস্ক ফল খাওয়ার অন্ততঃ আধ ঘন্টা পূর্বে ভিজিয়ে রাখতে হবে |


No comments

Theme images by ImagesbyTrista. Powered by Blogger.