meta name="google-site-verification" content="xjowQsHoQ-Mvf4cvToRhR1jibQ34TLi69aHBFwC5vc" /> আহার কিভাবে গ্রহণ করবেন??? - HEALTH PROBLEM SOLVE

আহার কিভাবে গ্রহণ করবেন???



আহার দ্বারা ব্যক্তির শরীরের নির্মাণ হয় |আহারের প্রভাব শুধু শরীরের ওপরেই নয় ,মনের ওপরেও পড়ে |নিজের প্রকৃতি অর্থাৎ বাত, পিত্ত, কফ - কে জেনে সেই অনুযায়ী ভোজন গ্রহণ করা উচিত |

• যদি বাত প্রকৃতি হয়, শরীরে বায়ু বিকার থাকে  তাহলে ভাত ও টক জাতীয় খাদ্য ত্যাগ করা উচিত |আদা বা শুকনো আদার প্রয়োগ করা উচিত |

• পিত্ত প্রকৃতির ব্যক্তিদের গরম ,ভাজাভুজি পদার্থ খাওয়া উচিত নয় |লাউ, শসা ইত্যাদি খাওয়া এনাদের পক্ষে উপকারী |সোজা কথায় ঠান্ডা জাতীয় জিনিস খাওয়া উচিত |

• কফ প্রকৃতির ব্যক্তিদের ঠান্ডা খাবার ,ভাত, দই ,লস্যি ইত্যাদির সেবন অধিক মাত্রায় করা উচিত নয় |এনাদের সমুচিত মাত্রায় আহার গ্রহণ করা উচিত |


ঋতু অনুযায়ী ভোজ্য পদার্থের সংমিশ্রণ করে সেবন করলে রোগ ধারে কাছেও ঘেঁষতে পারে না |

• ভোজনের সময় নির্দিষ্ট হওয়া উচিত |অসময়ে করা ভোজন অপচন হয়ে রোগের সৃষ্টি করে |সকাল আটটা থেকে ন 'টার মধ্যে হালকা পানীয় এবং ফলাদি খাওয়াটা ভালো |সকালে অন্নের সেবন যতটা কম করা হবে ,শরীরের পক্ষে ততই ভালো |পঞ্চাশ বছরের বেশি বয়সের ব্যক্তিদের পক্ষে প্রাতঃরাশ না নেওয়াটাই ভালো |

• দুপুরে এগারোটা থেকে বারোটার মধ্যে ভোজন করা উত্তম |বারোটা থেকে একটা পর্যন্ত সময় মধ্যম ,তার পরের সময়কে উত্তরোত্তর নিকৃষ্ট বলে মানা হয়েছে |

• সন্ধ্যাকালে সাতটা থেকে আটটা পর্যন্ত সময় উত্তম |আটটা থেকে নটা পর্যন্ত সময় মধ্যম এবং নটার পরের সময়কে উত্তরোত্তর নিকৃষ্ট সময় বলে মানা হয়েছে |


*** ভোজন করার সময় কথাবার্তা বললে ভোজন ভালো করে চেবানো যায় না |এই জন্য খাবার সময় মৌন থেকে ভালো করে চিবিয়ে চিবিয়ে খাওয়া উচিত |এক গ্রাসকে কম পক্ষে কুড়িবার চেবানো উচিত |ভালো করে চিবিয়ে খাবার খেলে মন থেকে হিংসার ভাব দূর হয় ,কারণ এটা আমরা সবাই জানি যে, যখন ক্রোধ আসে ,তখন ব্যক্তি দাঁতে দাঁত পিষতে থাকে অর্থাৎ ক্রোধের উদ্গম স্থল হচ্ছে দাঁত |আমরা যদি হিংসা ভাবকে সমাপ্ত করতে চাই ,তাহলে আমাদের চিবানোর ওপরে বিশেষ দৃষ্টি দিতে হবে |


*** ভোজনের মাঝে জলপান করা উচিত নয় |ভোজন যদি শুকনো হয় ,তাহলে খুব কম মাত্রায় জলপান করা যেতে পারে |ভোজনের পরে দু -তিন চুমুকের বেশি জলপান করা উচিত নয় |অবশ্য লস্যি হলে নিশ্চয়ই পান করা উচিত |সংস্কৃতে একটা শ্লোক আছে ,যার তাৎপর্য হচ্ছে - " যে ব্যক্তি প্রাতঃকালে ঘুম থেকে উঠে জল পান করে ,মধ্যাহ্নতে ভোজনের পর লস্যি পান করে এবং রাত্রিতে ভোজনের পর দুধ পান করে ,সেই ব্যক্তির কখনো বৈদ্যের প্রয়োজন পড়ে না |" অর্থাৎ সেই ব্যক্তি নীরোগ থাকে |এর সাথে সাথে ভোজন পূর্ণ রূপে আমাদের শরীরের পক্ষে উপযুক্ত হওয়া উচিত |ভোজনে খনিজ পদার্থ ,লবন এবং ভিটামিন বি ভরপুর মাত্রায় থাকা উচিত |ভোজনে মাংস, ডিম ইত্যাদির প্রয়োগ না হওয়াই উচিত |


ভগবান আমাদের নিরামিশাষী করে এই পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন |আমরা যখন ভাত -রুটি খেয়ে বেঁচে থাকতে পারি ,যার মধ্যে কোনো হিংসা নেই ,তাহলে কোন প্রাণীকে হত্যা করে তার প্রিয় জীবনটাকে শেষ করে দিয়ে বেঁচে থাকার কি প্রয়োজন ?

No comments

Theme images by ImagesbyTrista. Powered by Blogger.