meta name="google-site-verification" content="xjowQsHoQ-Mvf4cvToRhR1jibQ34TLi69aHBFwC5vc" /> পেঁপের উপকারিতা আপনি কি সঠিকভাবে জানেন??? - HEALTH PROBLEM SOLVE

পেঁপের উপকারিতা আপনি কি সঠিকভাবে জানেন???

পেঁপের উপকারিতা সম্পর্কে জ্ঞানলাভের আগে এই গাছটির সাথে আমাদের পরিচিত হওয়া ভীষণ জরুরী |

যদিও যাঁরা পেঁপের উপকারিতা পেয়েছেন তাঁরা খুব ভালোভাবেই এর সঙ্গে পরিচিত 


সুপরিচিত বিশেষ উপকারী ফল হিসেবে পেঁপের সমাদর প্রতি ঘরে ঘরে |পেঁপে গাছের আদি বাসস্থান দক্ষিণ আমেরিকার ব্রাজিলে |সেখান থেকে বিভিন্ন সময়ে এটি নানা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে |ভারতে এই ফল নিয়ে আসে পর্তুগীজরা |ক্রমে এটি সমগ্র ভারতে ব্যাপ্ত হয় |

আমাদের দেশে যেসব শাক -সবজি, ফল ও তরকারি বাইরের দেশ থেকে এসে স্থায়ীভাবে বসবাস করছে তাদের মধ্যে স্বাদ, গন্ধ, নির্যাস ও ভেষজগুনে পেঁপে এক বিশেষ স্থান লাভ করেছে |

পেঁপে শাখাপ্রশাখাহীন মধ্যম আকারের গাছ |ভূমি থেকে সোজা প্রায় কুড়ি -পঁচিশ ফুট উঁচু হয় |গাছ পুরনো হলে কদাচিৎ দু -একটি শাখা বের হতে দেখা যায় |ফলগুলি কাঁচা অবস্থায় সবুজ বর্ণের |এতে দুধের মতো আঠা থাকে |পাকলে পীতবর্ণ ধারণ করে |ফলের মধ্যভাগ ফাঁপা ও ভেতরে থাকে শত শত বীজ |কাঁচা অবস্থায় বীজ থাকে সাদা, পাকলে বর্ণ ধূসর বা কালো হয় |

পেঁপের পাতা, ফল ,মূল ,বীজ ঔষধার্থে ব্যবহার করা হয় |

••• পেঁপে পাতার উপকারিতা:



  •  ক্যান্সার:





পেঁপে পাতায় অ্যাচেটোজেনিন নামক একধরনের শক্তিশালী উপাদান আছে, যা ক্যান্সার কোষকে শরীর থেকে বের করে দিতে পারে অথবা তা নষ্ট করে ফেলতে পারে। জাপানে বিভিন্ন গবেষনায় দেখানো হয়েছে যে, পেঁপে পাতা ক্যান্সার নিরাময়ে বেশ কার্যকর। ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় দেখা গেছে পেঁপে পাতার চা-তে একধরণের বিশেষ উপাদান আছে, যা ক্যান্সার নিরাময় করে। বিশেষ করে, জরায়ু ক্যান্সার, প্রোস্টেট ক্যান্সার, লিভার ক্যান্সার, স্তন ক্যান্সার এবং ফুসফুসের ক্যান্সার। তাছাড়া, পেঁপে পাতার চা কোমোথেরাপী বহুলাংশে বাড়িয়ে দেয় এবং কোমোথেরাপীর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কমিয়ে দেয়।



ব্যবহারবিধি:


প্রথমে পেঁপে গাছের কচি পাতা সংগ্রহ করে বেটে বা ব্লেন্ড করে ছেঁকে নিতে হবে। ছেঁকে নেয়ার পর এ রস একজন প্রাপ্তবয়স্ক রোগীকে ১০ মিলি লিটার করে ০৮ ঘণ্টা পরপর দিনে দু’বার করে খেতে দিতে হবে। ৫-১২ বছর বয়সী শিশু রোগীদের ক্ষেত্রে ০৫ মিলি লিটার করে ০৮ ঘণ্টা পরপর দিনে দু’বার করে খেতে দিতে হবে। পাঁচ বছরের নিচের শিশুদের জন্য ২.৫ মিলি লিটার করে ০৮ ঘণ্টা পরপর দিনে দু’বার করে খেতে দিতে হবে। তবে একটি বিষয় মনে রাখা প্রয়োজন, তৈরি করা পেঁপে পাতার রসের সঙ্গে কোনো প্রকার লবণ বা চিনি মেশানো যাবে না।



  • ডেঙ্গু জ্বর:



এটা সর্বজন বিদিত যে পেঁপে পাতার রস ডেঙ্গু জ্বর নিরাময় করার অসাধারণ ক্ষমতা রয়েছে। এটা রক্তের প্লেটেলেট বাড়াতে দারুন কার্যকর।



  • ম্যালেরিয়া জ্বর:



ম্যালেরিয়ার প্রতিষেধক হিসেবেও পেঁপে পাতা পরিচিত। ম্যালেরিয়া জ্বর প্রতিরোধে এটা বেশ কার্যকর প্রমানিত হয়েছে। কারো ম্যালেরিয়া হলে এর রস খেলে প্রতিকার পাওয়া যায়।



  • পাকস্থলীর আলসার:



পেঁপে পাতা পাকস্থলীর ঝিল্লীর প্রদাহ কমায় এবং এইচ পাইলোরী নামক ব্যাকটেরিয়া যা মূলত আলসারের জন্য দায়ী, ধ্বংশ করে পেটের আলসার নিরাময় করে।



  • বদ হজম এবং বুকজ্বালা:



পেঁপে পাতায় ‘কারপেইন’ নামক একধরনের উপাদান রয়েছে, যা ব্যাকটেরিয়া মেরে ফেলতে পারে, যা পাকস্থলী সমস্যার অন্যতম কারণ। পেঁপে পাতাতে রয়েছে প্রচুর পরিমান প্যাপেইন, প্রোটিজ এনজাইম এবং অ্যামাইলেইজ এনজাইম, যা গম জাতীয় খাবারের গ্লুটেন ভেঙ্গে তা হজম উপযোগী করে দিতে পারে।



  • আমাশায়:



পেঁপে পাতা আমাশয়জনিত রোগের কারনে কোলনের প্রদাহ ও অন্ত্রের অন্যান্য প্রদাহ থেকে দূরে রাখে।



  • হৃদরোগ:



পেঁপে পাতা করোনারী হার্ট ডিজিজ এবং অন্যান্য হার্ট-এর রোগের ঝুকিঁ কমিয়ে দেয়। পেঁপে পাতায় প্রচুর পরিমান ভিটামিন সি, বি (নিয়াসিন) এবং পটাশিয়াম আছে যা হার্টের সুস্থ্যতার খুবই জরুরি।



  • প্রোস্টেট বৃদ্ধি:



পেঁপে পাতার চা প্রোস্টেটের বৃদ্ধি রোধ করে।



  • ব্রণ:



যদি আপনার ব্রণ থাকে, তবে কিছু শুকনো পেঁপে পাতা নিন। তারপর ব্লেন্ডারে নিয়ে পরিমান মত পানি দিয়ে ব্লেন্ড করে পেস্ট বানান। পেস্ট নিনে তা মাস্ক হিসেবে ব্যবহার করুন। এরপর শুকিয়ে গেলে ধুয়ে নিন, দেখবেন আপনার ব্রণ চলে গেছে।



  • ঋতুকালীন ব্যাথা:



৬টি পেঁপে পাতা ১ লিটার পানিতে ১৫ মিনিট ধরে ফুটাতে হবে। তারপর ছেকে নিন এবং যে কোন জুস মিশাতে পারেন এটার সাথে। এরপর ঠান্ডা করে দিনে ৩ বার খেতে হবে।



  • কোষ্ঠ্যকাঠিন্য:




কোষ্ঠ্যকাঠিন্য হলে পেঁপে পাতার চা বানিয়ে খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য নিরাময় হয়।



••• কাঁচা পেঁপের উপকারিতা :


• এনজাইমের শক্তিঘর:


অনেকেই পেঁপে গুণাগুণ সম্পর্কে জানেন। কাঁচা সবুজ পেঁপেতে নানা রকম প্রাকৃতিক এনজাইম থাকে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য দুটি এনজাইম হচ্ছে সাইমোপ্যাপিন ও প্যাপিন। এই দুটি এনজাইম প্রোটিন চর্বি ও কার্বোহাইড্রেট ভাঙতে সাহায্য করে।


• অভ্যন্তরীণ শুদ্ধিকারক:


পেট পরিষ্কারক হিসেবে অনেকেই কাঁচা পেঁপে খান। এটা অনেকটাই ঝাঁটার মতো কাজ করে। কাঁচা পেঁপে খেলে কোলন বা মলাশয় ও পরিপাকনালির যত পুরোনো নোংরা পরিষ্কার হয়ে যায়। পেঁপেতে থাকা আঁশ ক্রনিক কোষ্ঠকাঠিন্য, অ্যাসিডিটি বা অম্লতা, পাইলস ও ডায়রিয়া দূর করতে পারে। মানুষের শরীরকে ভেতর থেকে পরিষ্কার করতে পেঁপে দারুণ কার্যকর।


• পুষ্টির পাওয়ার হাউস:


‘নিউট্রিশন’ নামের ব্রিটিশ জার্নাল বা সাময়িকীতে প্রকাশিত এক গবেষণা তথ্য অনুযায়ী, কাঁচা পেঁপেতে অনেক বেশি ক্যারটিনয়েডস থাকে, যা গাজর বা টমেটোর চেয়ে বেশি। মানুষের শরীরে জন্য কাঁচা পেঁপেতে থাকা ক্যারটিনয়েড বেশি উপযোগী।

• ত্বকের সুরক্ষায়:


পেঁপের আঁশ শরীরের ভেতরের বিষাক্ত ভাব দূর করে বলে নিয়মিত কাঁচা পেঁপে খেলে ত্বকের সমস্যা দূর হয়। বিশেষ করে ব্রণ এবং ত্বকের ওপর নানা দাগ দূর করতে পারে কাঁচা পেঁপে। মৃত কোষ সমস্যা দূর করতে পারে পেঁপে।

যেভাবে খাবেন

১. শরীর ঠিক রাখতে নিয়মিত কাঁচা পেঁপের জুস খেতে পারেন। কাঁচা পেঁপের সঙ্গে শসা মিশিয়ে ব্লেন্ড করে নিন। এতে একটু লেবু চিপে দিয়ে খেতে পারেন।

২. স্যালাড করে খেতে পারেন।


৩. তরকারি হিসেবেও কাঁচা পেঁপে খেতে পারেন। 


••• পাকা পেঁপের উপকারিতা :


 হৃদরোগ থেকে রক্ষা করে:


নিয়োমিত পেপে খেলে অথেরোস্ক্লেরোসিস এবং ডায়াবেটিক হৃদরোগ প্রতিরোধ করে। পেঁপের ভিটামিন এ, সি এবং ই, সমূহের এবং শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্টস এর চমৎকার উৎস।  
এই তিনটি পুষ্টি কলেস্টেরল প্রতিরোধে সাহায্য করে, যা হার্ট এটাক ও স্ট্রোক এর প্রধান কারণ এক। পেঁপের এছাড়াও ফাইবার এর একটি ভাল উৎস, যা উচ্চ কলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে সহায়তা করে।


২। দৃষ্টিশক্তি রক্ষা করে:


অপথ্যালমোলজি আর্কাইভস প্রকাশিত একটি সমীক্ষা অনুযায়ী, প্রতিদিন তিনবার পেপে খেলে চোখের বয়সজনিত ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়। বয়স্কদের মধ্যে দৃষ্টি ক্ষতি প্রাথমিক কারণ, প্রতিদিনের খাবারে তলনামূলক ভাবে কম পুস্টি গ্রহণ করা।পেঁপে আপনার চোখের জন্য ভাল এর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ভিটামিন এ, সি, ও ই এর উপস্থিতির কারণে।


৩। হজমে সহায়তা করে: 


বদ হজমের রোগিদের পাকা পেঁপে খেলে খুব উপকার মিলবে। পাঁকা পেপে খেলে মুখে রুচি বাড়ে, সাথে সাথে খিদে বাড়ে তাছাড়া পাঁকা পেপে কোষ্ট পরিস্কার করে এবং বায়ু নাস করে। এ ছাড়াও পেপে অর্শ রোগের ক্ষেত্রেও বেশউপকারি।


৪। অর্শ ও কৃমিনাশক:


কাঁচা পেঁপের আঠা বীজ কৃমিনাশক। কাঁচা পেঁপের আঠা চিনি বা বাতা্সোর সাথে মিশিয়ে খেলে অর্শ ও জন্ডিস সহ লিবারের নানা রোগ ভালো হয়। এ আঠা প্রতিদিন সকালে ৫- ৭ ফোটা আঠা বাতাসার সাথে মিসিয়ে খেলে অর্শের রক্ত পড়া বন্ধ হয়। ব্রন আচিল জিভের ঘায়ে এ আঠা লাগলে খুব উপকার হয়।


৫। কোলেস্টেরল কমায়:


অন্যান্য ফলের মতই পেঁপেতে কোনো কোলেস্টেরল নেই। আর পেঁপেতে আছে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার। তাই কোলেস্টেরলের সমস্যায় যারা দুশ্চিন্তায় আছেন তাঁরা প্রতিদিনের খাবার তালিকায় পেঁপে রাখুন। অন্যান্য কোলেস্টেরল যুক্ত খাবারের বদলে পেঁপে খান। তাহলে আপনার কোলেস্টেরলের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে থাকবে।


৬। ক্যানসারের ঝুঁকি কমায়:


পেঁপেতে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, বিটা ক্যারোটিন, ফ্লেভানয়েড, লুটেইন, ক্রিপ্টোক্সান্থিন আছে। এছাড়াও আরো অনেক পুষ্টি উপাদান আছে যেগুলো শরীরের জন্য খুবই উপকারী। ক্যারোটিন ফুসফুস ও অন্যান্য ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়।


৭। চুলের যত্নে: 


চুলের যত্নে পেপে অত্যন্ত গুরুত্বপুর্ণ ভূমিকা পালন করে। টক দইয়ের সাথে পেপে মিশিয়ে চুলে মাখলে চুলের গোরা শক্ত হয় ও চুল ঝলমলে হয়। ১ চামচ পেপের আঠা ৭/৮ চামচ পানি দিয়ে ফেটে চুলের গোড়ায় কিছুক্ষন রেখে ধুয়ে ফেললে উকুন মরে যায়।


৯। ত্বকের যত্নে:


পেঁপে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি-অক্সিডেন্টসমৃদ্ধ ফল, তাই ত্বকের লাবণ্য ও উজ্জ্বলতা ধরে রাখতে সাহায্য করে। রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক রাখে। প্রতিদিন পাকা পেপের সাথে মধু ও টকদই মিশিয়ে লাগালে ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পায়।


১০। ব্রণের দাগ কমিয়ে উজ্জ্বলতা বাড়ায় :



ব্রণের সমস্যা প্রায় সবারই থাকে। এসব ব্রণের কারণে মুখে খুব বাে ধরনের দাগ তৈরি হয়। এই বাজে দাগগুলো নিরাময় করতে পারে সুমিষ্ট এই ফলটি। মুখের অন্যান্য যেকোনো দাগ যেমন মেছতা, ফুস্কুরির দাগও খুব সহজেই দূর করে দিতে পারে। মুখের বিভিন্ন দাগ দূর করার পাশাপাশি পেঁপে ফলটি মুখের উজ্জ্বলতাও ফিরিয়ে আনতে সহায়তা করে।






No comments

Theme images by ImagesbyTrista. Powered by Blogger.