meta name="google-site-verification" content="xjowQsHoQ-Mvf4cvToRhR1jibQ34TLi69aHBFwC5vc" /> আসন উপযোগী নিয়ম (আসনের সময় কি কি বিষয় লক্ষ্য রাখতে হবে ) - HEALTH PROBLEM SOLVE

আসন উপযোগী নিয়ম (আসনের সময় কি কি বিষয় লক্ষ্য রাখতে হবে )

আসনের কিছু নির্দিষ্ট বিধি বা নিয়ম রয়েছে |যেগুলি না মানলে আসনের উপকারিতা পাওয়া যায় না |


আসন উপযোগী নিয়ম আলোচনা করার পূর্বে আসন জিনিসটা কি সে সম্পর্কে জেনে নেওয়া ভালো |



••• পদ্মাসন ,ভদ্রাসন, সিদ্ধাসন বা সুখাসন ইত্যাদি যেকোনো আসনে স্থিরতা আর সুখপূর্বক বসাকে আসন বলা হয় |যাঁরা এই আসনে বসতে পারেন না বা যাঁরা রোগী, তাঁদের জন্য মহর্ষি ব্যাস বলেছেন বলেছেন যে ,তাঁরা সোপাশ্রয় আসন অর্থাৎ চেয়ার বা দেওয়াল ইত্যাদি আশ্রয় নিয়ে প্রাণায়াম, ধ্যান ইত্যাদির অভ্যাস করতে পারেন |আসন করলে শরীরের প্রতিটি অঙ্গ -প্রত্যঙ্গ পূর্ণ ক্রিয়াশীলতা প্রাপ্ত হয় |এর ফলে শরীর সুস্থ ও নমনীয় হয়ে ওঠে |


*** আসন উপযোগী নিয়ম :

1. সময় :
As
আসন প্রাতঃকাল ও সন্ধ্যাকাল দুই সময়েই করা যেতে পারে |সবচেয়ে উত্তম সময় হচ্ছে প্রাতঃকাল অর্থাৎ সকালবেলা |সকালবেলা মন শান্ত থাকে |সকালবেলা শৌচাদি সেরে খালি পেটে এবং দুপুরের খাবার খাওয়ার প্রায় 5-6 ঘন্টা পরে সন্ধ্যাবেলা আসন করা যেতে পারে |যদি কোষ্ঠকাঠিন্য থাকে, তাহলে সকালে তামা ও রুপোর পাত্রে রাখা জল পান করা উচিত |তারপরে কিছুক্ষন ভ্ৰমণ করুন |এতে পেট পরিষ্কার হয়ে পড়ে |কোষ্ঠকাঠিন্য খুব বেশি থাকলে ,ঘুমোবার আগে ত্রিফলা ইত্যাদি চূর্ণ গরম জলের সঙ্গে খাওয়া উচিত |


2. স্থান :
s
স্বচ্ছ ,শান্ত এবং একান্ত স্থান আসন করার পক্ষে উত্তম স্থান |জায়গাটা যদি গাছে ঘেরা কোন বাগান ,পুকুর বা নদীর ধারে হয় ,তো অতি উত্তম |খোলা পরিবেশে এবং গাছের কাছে অক্সিজেন পর্যাপ্ত মাত্রায় থাকে ,সেটা স্বাস্থ্যের পক্ষে উত্তম |আপনি যদি বাড়িতেই আসন -প্রাণায়াম করেন, তাহলে ঘিয়ের প্রদীপ বা অন্য কিছু জ্বালিয়ে সেই স্থানটিকে সুগন্ধিত করে নেওয়া উচিত |


3. বেশভূষা :

আসন করার সময় শরীরে বস্ত্র কম এবং সুবিধাজনক হওয়া চাই |পুরুষেরা হাফ প্যান্ট এবং গেঞ্জি পরে আসন করতে পারেন |মহিলারা সালোয়ার ইত্যাদি পরে আসন করতে পারেন |


4. আসন এবং মাত্রা :

মাটিতে বেছাবার জন্য মোলায়েম সতরঞ্জি বা কম্বলের প্রয়োগ করা উচিত |খালি মাটিতে আসন করবেন না |নিজের শক্তি অনুযায়ী ব্যায়াম করা উচিত |আসনের পূর্ণ অভ্যাস এক ঘন্টায়, মধ্যম অভ্যাস 30 মিনিটে এবং সংক্ষিপ্ত অভ্যাস 15 মিনিটে হয় |


5. আয়ু :

মন একাগ্র করে প্রসন্নতা এবং উৎসাহের সঙ্গে নিজের আয়ু ,শারীরিক শক্তি এবং ক্ষমতার কথাকে মাথায় রেখে আসন অভ্যাস করা উচিত |তাহলেই ব্যক্তি যোগ দ্বারা বাস্তবিক লাভ ওঠাতে পারেন |বৃদ্ধ ও শারীরিক রূপে দুর্বল ব্যক্তিদের আসন এবং প্রাণায়াম অল্প মাত্রাতে করা উচিত |10 বছরের বেশি বয়সের বালকেরা সব যৌগিক অভ্যাস করতে পারে |গর্ভবতী মহিলারা কঠিন আসন করতে যাবেন না |ওনারা কেবল অত্যন্ত দ্রুত দীর্ঘ শ্বসন, প্রনবনাদ এবং গায়ত্রী ইত্যাদি পবিত্র মন্ত্র দ্বারা ধ্যান করুন |


6. অবস্থা এবং সতর্কতা :

Kg
সব অবস্থাতেই আসন এবং প্রাণায়াম করা যেতে পারে |এই ক্রিয়ায় সুস্থ ব্যক্তির স্বাস্থ্য উত্তম হয়ে ওঠে|সে কোনোদিনও রোগে পড়ে না এবং রোগী ব্যক্তিও সুস্থ হয়ে ওঠে |কিন্তু এমন অনেক আসন আছে ,যেগুলো রোগী ব্যক্তির করা উচিত নয় |যেমন - যাদের কানে পুঁজ রয়েছে, যাদের চোখ অত্যধিক লাল ,যাদের স্নায়ু এবং হৃদয় দুর্বল - এমন ব্যক্তিদের শীর্ষাসন করা উচিত নয় |দুর্বল হৃদয়ের ব্যক্তিদের বেশি ভারী আসন - যেমন, পূর্ণ শলভাসন, ধনুরাসন ইত্যাদি করা উচিত নয় |উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের মাথার ওপরে ভর করে করা শীর্ষাসন ইত্যাদি এবং মহিলাদের ঋতুকালে 4-5 দিন আসনের অভ্যাস করা উচিত নয় |যাদের কোমরে এবং ঘাড়ে যন্ত্রণা রয়েছে, তারা সামনের দিকে ঝুঁকে করা আসন করবেন না |


7. আহার :

আসন করার প্রায় আধ ঘন্টা পরে খাবার খাওয়া উচিত |আহারে সাত্ত্বিক পদার্থই সেবন করা উচিত |ভাজাভুজি এবং ভারী খাবার খেলে জঠর বিকৃত হয়ে পড়ে |গ্রন্থির প্রায় 50 সেলস নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে |এর থেকে আপনি স্বয়ং অনুমান লাগাতে পারেন যে, চা কতটা ক্ষতি করে |এটাও স্বাস্থ্যের এক ভয়ানক শত্রু ,যা শরীর রুপী পবিত্র মন্দিরকে বিকৃত করে তোলে |জঠরাগ্নিকে মন্দ করতে এবং অম্লপিত্ত ,গ্যাস ,কোষ্ঠকাঠিন্য ইত্যাদি রোগ উৎপন্ন করতে চায়ের বিরাট বড় ভূমিকা থাকে |লিভারকে বিকৃত করতেও চা এবং এলোপাথিক ওষুধের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকে |


8. শ্বাস -প্রশ্বাসের নিয়ম :

আসন করার সময় সাধারণ নিয়ম হচ্ছে যে, সামনের দিকে ঝোঁকার সময় শ্বাস ছাড়া উচিত এবং পেছনের দিকে ঝোঁকার সময় শ্বাস ভেতরে টেনে রাখা উচিত |শ্বাস নাক দ্বারাই নেওয়া ছাড়া উচিত, মুখ দিয়ে নয় |কারণ নাক দিয়ে নেওয়া শ্বাস ফিল্টার হয়ে ভেতরে যায় |


9. দৃষ্টি :

চোখ বন্ধ করে যোগাসন করলে মনের একাগ্রতা বৃদ্ধি পায়, যার ফলে মানসিক টেনশন ও মনের চঞ্চলতা দূর হয়ে পড়ে |সাধারণতঃ আসন ও প্রাণায়াম চোখ খুলেও করতে পারেন |


10. ক্রম :

কিছু আসন এক পাশে করার মত হয় |যদি কোন আসন আপনি ডান দিকে করেন ,তাহলে সেটা বাঁ দিকেও করুন |এছাড়া আসনের এমন একটা ক্রম নিশ্চিত করুন যে ,প্রত্যেক অনুবর্তী আসন দ্বারা উল্টো দিকেও মাংসপেশী এবং সন্ধিগুলোর ব্যায়াম হয়ে পড়ে |শোওয়া অবস্থায় আসনের পরে যখনই উঠবেন, বাঁ দিকে ঝুঁকে ওঠা উচিত |অভ্যাসের পরে 5-10 মিনিট এর জন্য শবাসন অতি অবশ্যই করুন, যাতে শরীরের সব অঙ্গ -প্রত্যঙ্গ গুলো শিথিল হয়ে পড়ে |


11. বিশ্রাম :

আসন করতে করতে যখনই ক্লান্তি অনুভব করবেন, তখনই শবাসন বা মকরাসনে বিশ্রাম করা উচিত |ক্লান্ত হয়ে পড়লে আসনের মাঝেও বিশ্রাম করতে পারেন |


12. গুরু :

যোগের সিদ্ধি গুরুকৃপা এবং গুরু দ্বারা প্রদর্শিত পথেই হয় |এজন্য যোগাসন, প্রাণায়াম এবং ধ্যান শুরুতে গুরুর সান্নিধ্যেই করা উচিত |


13. শরীরের তাপমাত্রা :

শরীরের তাপমাত্রা খুব বেশি উষ্ণ হলে বা জ্বর অবস্থায় যোগাভ্যাস করতে গিয়ে যদি শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে ওঠে ,তাহলে বাঁ দিকের নাক দিয়ে শ্বাস ভেতরে টেনে ডান দিকের নাক দিয়ে শ্বাস বাইরে ছেড়ে দেওয়া উচিত |এই প্রক্রিয়াটি বারবার করলে শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিক হয়ে যায় |


14. পেট পরিষ্কার :

পেট যদি ভালোভাবে পরিষ্কার না থাকে ,যদি কোষ্ঠকাঠিন্য বা বদহজম থাকে, তাহলে শুরুতে কিছুদিন ত্রিফলা ইত্যাদি রাতে ঘুমোবার সময় খান |অন্যথা পেট পরিষ্কার না হলে চোখ, মুখ, মাথার রোগ এবং স্নায়ুমণ্ডলের দুর্বলতা দেখা দিতে পারে |


15. কঠিন আসন :

যেসব ব্যক্তির আগে কখনো হাড় ভেঙে গিয়েছিল ,তারা কঠিন আসনের অভ্যাস কখনো করবেন না|নাহলে সেই স্থানের হাড় আবার একবার ভেঙে যেতে পারে |



16. ঘেমে উঠলে :

আসন অভ্যাস করার সময় ঘেমে উঠলে তোয়ালে দিয়ে ঘাম মুছে নিন |এতে শরীরে স্ফূর্তি আসে ,শরীরের চামড়া সুস্থ থাকে এবং রোগ -জীবাণু চামড়ার পথ দিয়ে শরীরের ভেতরে প্রবেশ করতে পারে না |যোগাসনের অভ্যাস স্নান করার পরেই করা উচিত |অভ্যাসের 15-20 মিনিট পরে শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিক হয়ে উঠলে আবার একবার স্নান করতে পারেন |


No comments

Theme images by ImagesbyTrista. Powered by Blogger.